লক্ষ্যে পৌঁছতে চাইলে কিভাবে নিজেকে নিজেই অনুপ্রাণিত করা যায় সেই বিষয়গুলো আজ আলোচনা করব।
লক্ষ্যকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। আপনি যা চান তাই পাওয়া সম্ভব, যদি আপনি বিশ্বাস করেন। কথায় আছে- মানুষ তার বিশ্বাসের সমান বড়। মানুষ যা বিশ্বাস করে তাই পায়। বিশ্বাসের গুরুত্ব যে কত ব্যাপক আর এটা প্রভাব বিস্তার করে তা জানার জন্য রোন্ডা বাইর্নের বিখ্যাত বই "দি সিক্রেট" পড়া যেতে পারে।
অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা দেওয়া বন্ধ করতে হবে
কারণ প্রতিটি মানুষই আলাদা। আপনি যত চেষ্টাই করেন না কেন, শতভাগ অন্যের মত হতে পারবেন না। তেমনি আপনার মতও কেউ হতে পারবে না। তাই শুধু শুধু অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করে সময় নষ্ট করা যাবে না। ডেল কার্ণেগির একটা উক্তি আছে- "
আপনার পিতা-মাতার যদি ১০০ সন্তান থাকে, তবে বাকি ৯৯ জন থেকে আপনি আলাদা।"
অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে
আপনার লক্ষ্য পূরণ করতে যে অভ্যাসগুলো প্রয়োজন সে অভ্যাসগুলো গড়ে তুলতে হবে।
লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য যে যে সমস্যা আছে সেসব সমস্যা নির্ণয় করতে হবে। এটা খুবি একটি গুরুত্বপূর্ণ উক্তি যে- কোন কিছুর সমাধান তখনই করা যায়, যখন সমস্যা খুঁজে বের করা যায়। কিন্ত দুঃখজনক হল- আমাদের বেশিরভাগ বদ অভ্যাস দ্বারা আমাদের অভ্যাস গঠিত। যেমনঃ বন্ধুদের সাথে খোস গল্প করা, আড্ডাবাজি করা, সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি ইত্যাদি। আমাদের অভ্যাসগুলো প্রোডাক্টিভ হতে হবে। সময়ের প্রতিটা সেকেন্ড যেন ব্যবহার করতে পারি আমাদের অভ্যাসগুলো সেইভাবে গড়ে তুলতে হবে।
সময়ের সঠিক ব্যবহার
এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে বলব বিশ্বখ্যাত লেখক
ব্রায়ান ট্রেসির "
টাইম ম্যানেজমেন্ট" বইটা পড়ার জন্য। প্রতিটা দুনিয়া বিখ্যাত ব্যক্তিই যেমন- আইন্সটাইন, নিউটন, গণিতবিদ ওমর আল খাওয়ারিজম প্রমুখ ২৪ ঘন্টা সময় পেয়েছেন, আমিও তাই পাচ্ছি। তারা সেই সময়ের ব্যবহার করে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি ছড়াতে পারলে আমি পারব না কেন? নিজেকে এ প্রশ্ন করুন। আপনার সময়গুলো কোথায় কোথায় অপচয় হচ্ছে তা খুজে বের করে এখনি সেই সব বাজে চক্র থেকে বেরিয়ে আসুন।
নিজের সাথে নিজেকে কথা বলতে হবে
অনেকেই এটাকে পাগলের প্রলাপ বলে; কিন্তু এটা ঠিক নয়। কারণ, নিজের সাথে নিজে কথা বলার মাধ্যমে লক্ষ্যে পৌঁছাতে অনেকাংশে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে অটোসাজেশনের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। যেমনঃ আমি এটা পারব, আমার দ্বারাই এটাই সম্ভব, পৃথিবীর কোন প্রতিকুলতাই আমাকে ঠেকাতে পারবেনা, ইনশাল্লাহ। এরপর নিজেকে জিজ্ঞেস করুন আপনি কি চান। সেটা পেতে হলে কিভাবে পাওয়া সম্ভব। আপনার চাওয়াগুলোকে মনে মনে না রেখে একটা সাদা কাগজে লিখুন। তারপর সেগুলা পেতে কি কি প্রতিবন্ধকতা আছে সেগুলাও লিখে ফেলুন। এরপর একটা একটা করে সেই প্রতিবন্ধকতাগুলো ভেঙ্গে ফেলুন। আপনার বিজয় অবশ্যাম্ভাবী।
সমালোচনায় ভয় পাবেন না
কারণ যখন কোন ব্যক্তি তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে যায় মানুষ তখন তাকে নিয়েই সমালোচনা শুরু করে দেয়। যখন ঝড় হয় তখন বাতাসে বড় বড় গাছ গুলোই বেশি নড়ে, আশেপাশে ছোট গাছগুলোর উপর ঝড়ের কোনো প্রভাব পড়ে না। ঠিক তেমনি আপনি যখন বড় কোনো লক্ষ্য পূরণ করতে চাইবেন, তখন সমালোচনার শিকার হবেন - এটাই স্বাভাবিক। নেলসন ম্যান্ডেলার একটি উক্তি আছে-
যে যত বড়, তার সমালোচনা তত বেশি। তাই অন্যেরা কি বলবে তা নিয়ে একটুও মাথা ঘামাবেন না। মনে রাখবেন বিজয়ের দেখা সেই পায় - যার লক্ষ্য অটুট ও দৃঢ় মনোবল থাকে। কোন পার্শ্ব শক্তি তাকে তার লক্ষ্য থেকে টলাতে পারেনা।
প্রার্থনা
প্রতিটা ধর্মেই নিজস্ব প্রার্থনা পদ্ধতি আছে। নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টার পাশাপাশি অবশ্যই সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজের লক্ষ্যপূরণের জন্য প্রার্থনা করতে হবে। দুনিয়ার সবাই সৃষ্টিকর্তার কাছে চায়। তবে সৃষ্টিকর্তা তাকেই দেয় যার চাওয়ার গভীরতা, আকুলতা বেশি। যার চাওয়া শুধু চাওয়াই নয় - চাওয়ার সাথে সাথে যার অশ্রুজল ঝরে সৃষ্টিকর্তা তার আশাই পূরণ করেন।
- Mofizul Islam