পুরুষদের হিজাব

 পুরুষেরও হিজাব আছে। একথা হয়ত আমাদের অনেকেরই জানা নাই। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সূরা নূরের ৩০নং আয়াতে পুরুষকে তার চোখের হিজাবের হুকুম দিয়েছেন। পুরুষের হিজাবের এই বিধানটি প্রথমে এসেছে। এরপরে ৩১নং আয়াতে এসেছে নারীর হিজাবের বিধান। 

আল্লাহপাক বলেন, ‘হে নবী! মুমিন পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।’ (সূরা নূর, আয়াত-৩০)

এই আয়াতে প্রথম নির্দেশনাটি হচ্ছে পুরুষের দৃষ্টি অবনত রাখার। আর পরেরটি হচ্ছে পুরুষের লজ্জাস্থান হেফাজত রাখার। নির্দেশনা দুটি একটি আরেকটির সাথে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। প্রথমটির অনিবার্য পরিণতিই হচ্ছে শেষেরটি। অর্থাৎ দৃষ্টি নিয়ন্ত্রিত হলেই লজ্জাস্থানের সংরক্ষণ সম্ভব। 

একজন পুরুষের জন্য নিজ স্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন নারীর সৌন্দর্যকে দেখা বা দেহের আকৃতি অন্তরে অনুভব করা সম্পুর্ন হারাম। অথচ আমাদের সমাজে নোংরা লোলুপ দৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষ রয়েছে। এদের চোখের কামুকতায় কন্যা শিশু থেকে বৃদ্ধা নারী পর্যন্ত কারোই যেন কোন রেহাই নাই। কেউ ধর্ষণ করলে স্বাক্ষী প্রমান থাকে। ইভটিজিং করলে স্বাক্ষী প্রমান থাকে। কিন্তু চোখের যিনার কোন স্বাক্ষী প্রমান থাকে না বলে এরা দিব্যি পার পেয়ে যায়। তবে এটা দুনিয়ার আইনে। কিন্তু আল্লাহর দরবারে চোখের যিনাকারীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।

প্রশ্ন আসতে পারে, আমাদের সমাজে পুরুষের পক্ষে সার্বক্ষণিক চোখ বাঁচিয়ে চলাচল করাটা তো কঠিন কাজ। এর উত্তরে সুন্দর একটি হাদিস রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একবার হজরত আলী (রাঃ)কে বলেন, ‘হে আলী! তুমি দৃষ্টির পর দৃষ্টি ফেলো না। হঠাৎ অনিচ্ছাকৃতভাবে যে দৃষ্টি পড়ে তার জন্য তুমি ক্ষমা পাবে। কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টি তোমার জন্য বৈধ নয়।’ (আহমাদ, তিরমিযী, আবুদাউদ, দারেমী, মিশকাত: ৩১১০)

আসলে বাহ্যিক পর্দা দ্বারা যেমন দেহকে আবৃত করা জরুরী। তেমনিভাবে তাকওয়া বা আল্লাহ্‌ ভীতির দ্বারা আমাদের চোখ ও মনকে কন্ট্রোল ও হিফাজতে রাখাও জরুরী। এই উভয় প্রকার পদ্ধতি অবলম্বনের দ্বারাই নারী-পুরুষ উভয়ের পরিপূর্ণ পর্দার সংরক্ষণ সম্ভব। 

তাই নারীর যেমন পর্দা প্রয়োজন। পুরুষেরও তেমনি চোখের পর্দা প্রয়োজন। এর দুটির কোনো একটির অভাবে সমাজে ধর্ষণ, ব্যভিচারীতা, পরকীয়া, অশ্লীলতা ও শ্লীলতাহানির মত বিভৎসতা প্রসার লাভ করতে বাধ্য।

তাই হারামে দৃষ্টি দেবার আগে আমরা যেন মনে রাখি, আল্লাহ কিন্তু আমাদের উপর সার্বক্ষণিক দৃষ্টি দিয়ে রেখেছেন।




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম